ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬ , ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কমলো জেট ফুয়েলের দাম ৬৮৯ কোটি টাকার ইউরিয়া-ডিএপি সার কেনার অনুমোদন দিল সরকার ঈদযাত্রার শুরুতেই সড়কে মৃত্যু ১২, ভয়াবহ দুর্ঘটনার ছড়াছড়ি ৫ জেলায় রামিসা হত্যা মামলার বিচার শুরু ঈদের পর: আইনমন্ত্রী হামে শিশুমৃত্যু ৫০০ ছাড়াল,বেশি গুরুতর ঢাকা বিভাগ জাতীয় সাইবার ড্রিল ২০২৬-এ চ্যাম্পিয়ন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ‘সাইবারস্যাভি’ ২০২৬ বিশ্বকাপে বিদেশি কোচদের দাপট, শীর্ষে আর্জেন্টিনা ড্রোন হামলা প্রতিরোধে তেল ডিপোতে লোহার সুরক্ষা কাঠামো বসাচ্ছে আমিরাত ঝিনাইদহে এনসিপি নেতার ওপর হামলা: জামায়াতের তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ বাড্ডায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় অটোরিকশা চালকের মৃত্যু জুমার নামাজের পর মাদকাসক্ত ছেলের হাতে প্রাণ গেলো বৃদ্ধ বাবার আলোচিত রামিসা হত্যার বিচারের দাবিতে মিরপুর-১০ নম্বরে 'ব্লকেড কর্মসূচি' পাটগ্রাম সীমান্তে চোরাকারবারীদের লক্ষ্য করে বিজিবির গুলি এবারও বিনা টিকিটের যাত্রী ঠেকাতে কমলাপুরে বাঁশের বেড়া সিলেটে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারালেন এক র‌্যাব সদস্য মুঠোফোনে এক চাপেই সর্বনাশ, মুহূর্তেই খালি ব্যাংক হিসাব ‘হানিমুন’-এর জন্য ৭৫ হাজার সাপ প্রতিবছর ভিড় করে কানাডার নারসিসে চট্টগ্রামে ৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্তকে ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা পিআইসিইউ সংকটে চমেকে বাড়ছে শিশু মৃত্যুর শঙ্কা, দিশেহারা স্বজনরা ৮৩ দিনে গড়াল ইরানের ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, বিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন দেশটি

লোভনীয় চাকরির বিজ্ঞাপনের ফাঁদে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশি তরুণ, জানালেন লোমহর্ষক অভিজ্ঞতা

  • আপলোড সময় : ১০-০৫-২০২৬ ০১:১৪:৫৯ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১০-০৫-২০২৬ ০১:১৪:৫৯ অপরাহ্ন
লোভনীয় চাকরির বিজ্ঞাপনের ফাঁদে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশি তরুণ, জানালেন লোমহর্ষক অভিজ্ঞতা
ফেসবুকে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে রাশিয়া পাড়ি দিয়েছিলেন বাংলাদেশি ইলেকট্রিশিয়ান মোহন মিয়াজি। বেশি উপার্জনের স্বপ্ন নিয়ে গিয়ে তিনি পড়েন এক ভয়াবহ ফাঁদে। ইলেকট্রনিক্সের কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে ঠেলে দেওয়া হয় ইউক্রেনের যুদ্ধের সম্মুখ সারিতে। সেখানে শ্র্যাপনেলের আঘাতে জখম হন, চোখের সামনে খনিবিস্ফোরণে মারা যান সঙ্গী বাংলাদেশি। দীর্ঘ আট মাস পর কোনোভাবে দেশে ফিরে এখন তিনি সতর্ক করছেন অন্যদের।গজারিয়ার বাসিন্দা মোহন মিয়াজির বয়স ৩০। ফেসবুকে একটি বিজ্ঞাপন দেখেন, যেখানে তার বর্তমান বেতনের পাঁচ গুণেরও বেশি অর্থের প্রলোভন দেওয়া হচ্ছিল। জনবহুল বাংলাদেশে ভালো আয়ের সন্ধানে থাকা লাখো তরুণের মতোই তিনিও সেই সুযোগ লুফে নেন।


শুরুতে পূর্ব রাশিয়ার স্ভোবোদনিতে ইলেকট্রনিক্সের কাজ পান মোহন। বাংলাদেশের ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আবহাওয়ায় অভ্যস্ত মানুষটিকে সেখানে মাইনাস ২০ ডিগ্রি ঠান্ডার মুখোমুখি হতে হয়।পাঁচ মাস পর ভ্লাদিমির পুতিনের সেনাবাহিনীর হয়ে কাজ করা একজন রুশ এজেন্ট তাকে এবং আরও কয়েকজনকে আরও ভালো জায়গায়, সামনের সারি থেকে অনেক দূরে ইলেকট্রনিক্সের কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু বাস্তবে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় রোস্তভ-অন-ডনের একটি সামরিক ঘাঁটিতে, যেখানে তিন সপ্তাহ ধরে চলে মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ।


‘আমাকে বলা হয়েছিল আমি সামনের সারিতে থাকব না। তবু আমাকে শেখানো হলো অ্যাসল্ট রাইফেল চালানো, আরপিজি ছোড়া এবং গ্রেনেড ছোড়ার কায়দা। তারা বলল এটা স্বাভাবিক নিয়ম, আমি বিশ্বাস করেছিলাম।’দোনেৎস্কের একটি সেনাছাউনিতে পৌঁছানোর পর সেখানকার কমান্ডার মোহনকে জানান, তিনি চুক্তিতে সই করে সেই ব্যাটালিয়নে যোগ দিয়েছেন। মোহন রিক্রুটিং এজেন্সির কাগজপত্র দেখিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তাকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যুদ্ধে জড়ানো হবে না। কমান্ডার তখন স্বীকার করেন, তাকে প্রতারণা করা হয়েছে।



এরপর মোহনকে পাঠানো হয় আভদিভকায়। ২০২৪ সালে রাশিয়া এই শহরটি দখল করে নেয়, তার আগে সেখানে ভয়াবহ যুদ্ধ হয়। পুতিনের ‘মিট গ্রাইন্ডার’ কৌশলের অংশ হিসেবে সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থানগুলোতে একের পর এক সৈন্য পাঠানো হতো, যেখানে হাজার হাজার রুশ সেনা মারা যায়।আগ্রগামী সেনাদের সহায়তাকারী একটি লজিস্টিক ইউনিটে মোহনকে রাখা হয়। তার কাজ ছিল গোলাবারুদ, অস্ত্র ও জ্বালানি সরবরাহ করা এবং মৃতদেহ উদ্ধার করা। পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ ছিল তা তার কথাতেই স্পষ্ট।‘প্রতিবার যখন আশ্রয় নেওয়া পরিখা থেকে বের হতে হতো, আমি ভয়ে কাঁপতাম। সামনের সারিতে আমার তৃতীয় দিনেই শ্র্যাপনেলের আঘাতে আমি জখম হই। এর কিছুদিন পরেই শুরু থেকে আমার সঙ্গে থাকা আরেকজন বাংলাদেশি খনিবিস্ফোরণে মারা যান।’




'রাশিয়া যে এলাকা দখল করেছিল তার সীমানায় আমরা যখন মৃতদেহ সংগ্রহ করতাম, তখন ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং গোলার আঘাত লেগেই থাকত। প্রায়ই কয়েক মিটারের মধ্যে বিস্ফোরণ হতো। আমি ভেবেছিলাম মরে যাব।'রুশ কমান্ডাররা তার বেতন আত্মসাৎ করতেন বলেও জানান মোহন। অভিযোগ করতে গেলে তাকে শাবল ও রাইফেলের বাট দিয়ে মারা হতো। ভুল হলে সংকীর্ণ বেসমেন্ট সেলে আটকে রেখে নির্যাতন করা হতো। অন্যদের উলঙ্গ করে ছাদ থেকে উল্টো ঝুলিয়ে রাখা হতো বলেও তিনি জানিয়েছেন।



মোহনের সঙ্গে লড়াই করা সেনাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন অন্য দেশের। নাইজেরিয়া, নেপাল, উগান্ডা, মিসর ও ইরাকের মানুষদের পাশাপাশি বহু উত্তর কোরিয়ানের সঙ্গেও তার দেখা হয়েছে। রাশিয়া তার বিপুল ক্ষয়প্রাপ্ত সেনাবাহিনীর শূন্যস্থান পূরণ করতে এভাবে বিভিন্ন দেশের মানুষকে ফাঁদে ফেলছিল।আট মাসের দুঃস্বপ্নের পর ২০২৫ সালের শেষ দিকে অফিশিয়াল ছুটিতে মস্কো যাওয়ার সুযোগ পান মোহন। সেনাবাহিনী তার পাসপোর্ট আটকে রেখেছিল, তাই বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে অস্থায়ী ভ্রমণ দলিল সংগ্রহ করেন। বিমানবন্দরে নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন, তবু শেষ পর্যন্ত বিমানে উঠতে পারেন।‘আমি ভেবেছিলাম তারা আমাকে থামিয়ে দেবে। দেশে ফিরে পরিবারের কাছে পৌঁছানোর পর আমার মা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন আর কখনো আমাকে দেখবেন না। জড়িয়ে ধরে আমরা দুজনেই কাঁদলাম।




এখন ভাইয়ের সঙ্গে বাড়িতে আছেন মোহন। নিজে যে ভুল করেছিলেন তা স্বীকার করে তিনি এখন সতর্ক করছেন দেশের অন্য তরুণদের। হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামে ট্র্যাভেল এজেন্সি বা জব প্লেসমেন্ট ফার্মের মুখোশে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো বেসামরিক চাকরির প্রলোভনে মানুষকে রাশিয়ায় নিয়ে যাচ্ছে।ক্রেমলিনের এই কৌশলের শিকার হচ্ছেন দরিদ্র দেশগুলোর মানুষেরা। আনুমানিক ৩ লাখ ২৫ হাজার সৈন্য হারানোর পর রাশিয়া এভাবেই তার সেনাবাহিনী পুনরায় ভরাট করার চেষ্টা করছে।
 

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কনডমের ব্র্যান্ড এ‍্যাম্বাসেডরের মাধ‍্যমে বাড়ছে সচেতনতা-স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নকল পণ্য ঝুঁকি ও পরিবার পরিকল্পনায় কনডম ব্যবহারে নতুন মাত্রা

কনডমের ব্র্যান্ড এ‍্যাম্বাসেডরের মাধ‍্যমে বাড়ছে সচেতনতা-স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নকল পণ্য ঝুঁকি ও পরিবার পরিকল্পনায় কনডম ব্যবহারে নতুন মাত্রা